ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের হাজারিবাগয়ে বন্য হাতির হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য গাল্ফ নিউজ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জেলার গন্ডওয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে পাঁচটি হাতির একটি পাল গ্রামে প্রবেশ করে। তারা একাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে, দেয়াল ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। গ্রামবাসীরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, বাসনপত্র পিটিয়ে ও টর্চের আলো ফেলে হাতিগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় তাণ্ডব চালানোর পর বন বিভাগের সহায়তায় হাতির পালটি শেষ পর্যন্ত জঙ্গলে ফিরে যায়। তার আগে হাতির দলের তাণ্ডবে প্রাণ হারান ছয়জন।
নিহতরা হলেন সূরজ ভূঁইয়া (৫৫), তার পুত্রবধূ সুমন দেবী (২৫), সুমনের দুই শিশু সন্তান, মঙ্গরা ভূঁইয়া (৫৮) এবং ধনেশ্বর রাম (প্রায় ৫৫)। গ্রামবাসীদের দাবি, রাতের বেলায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ হাতির পাল বাড়িতে ঢুকে পড়লে পালানোর সুযোগ পাননি তারা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকায় হাতির চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের রাতে একা বাইরে না যাওয়ার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ-হাতি সংঘাত বেড়েছে। গত ৪৫ দিনে এ ধরনের ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বনাঞ্চল ঘেঁষা এলাকাগুলোতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।