রূপসা উপজেলার জয়পুর গ্রামে একটি টেলিটক টাওয়ারসংলগ্ন শাহনাজ বেগমের বাড়ি থেকে তার বোনের স্বামী মোহর আলীর (৫৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিহতের ছেলে শুকুর আলী ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে তিনি তার পিতার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
পরে বিষয়টি এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. মহর আলী কৈয়া বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি গলা কাটা অবস্থায় ঘরের ভেতরে পড়ে ছিল। পাশ থেকে রক্তমাখা একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ওই কুড়াল দিয়ে গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু জানা যায়নি।
নিহতের স্ত্রী পুতুল বেগম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, নিহতের ছেলে শুকুর আলী (২৩) জানান, গত ১০ তারিখ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। ১২ তারিখ রাত ১১টার দিকে তার পিতার আনা মিষ্টি খেয়ে তার বাবা ও মা পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান এবং তিনি ও তার স্ত্রী অন্য একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
১৩ তারিখ ভোরে তার মা পুতুল বেগম দরজায় নক করে তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে একটি ড্রয়ার থেকে কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। পরে শুকুর আবার ঘুমিয়ে পড়েন। বেলা বাড়লে পরিবারের সবাই ঘুম থেকে ওঠেন। একপর্যায়ে শুকুর ঘরে গিয়ে তার বাবার মরদেহ দেখতে পান।
শুকুর আরও বলেন, তার মা কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য তিনি কর্মস্থল ঢাকা থেকে খুলনায় এসেছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, এটি ছিল মহর আলীর শ্বশুরবাড়ি। তিনি প্রায় ২০ বছর আগে হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী পুতুল বেগমের আগের একটি বিয়ে ছিল। সেই ঘরের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সবাই পুতুল বেগমের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এই বাড়িতে বসবাস করতেন। মহর আলীর নিজ বাড়ি দাকোপ উপজেলার বাজুয়া গ্রামে।