রাজশাহীতে ডেন্টাল কলেজ চালু ও সুগার মিলে চুরিচামারি বন্ধ করে লোকসান থেকে আলোর মুখ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজে রূপান্তর করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীতে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী সুগার মিল লোকসানের ঘানি টানছে। কেন লোকসান হবে? আমার দেশের মাটিতে আখ ফলে। আমার দেশের শ্রমিকরা কাজ করে। তাহলে লোকসান কেন? চুরিচামারির কারণে লোকসান হচ্ছে। যদি আপনাদের রায়ের প্রতিফলন ঘটে, ১৩ তারিখ থেকে বলা লাগবে না অটোমেটিক্যালি অনেকের কান এবং নাক খুলে যাবে। বাংলাদেশ নতুন পথ পাবে ইনশাআল্লাহ। রাজশাহী সুগার মিল লাভবান হবে।’
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত আমির বলেন, ‘রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। থাকবে, সব জায়গায় সমস্যা আছে; যেহেতু ইনসাফ কায়েম নাই, যেহেতু দেশকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট নাই। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ আছে, বহু পুরোনো। তার সাথে একটা ডেন্টাল ইউনিট করা হয়েছে, ডেন্টাল কলেজ করা দরকার। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আর কয়টা দিন তো, সবুর করুন। যদি আপনাদের পছন্দের লোকদের দায়িত্ব দেন, আপনাদের কিছু করতে হবে না। আমরাই খুঁজে খুঁজে সব বের করব, জাতিকে সেবা দেওয়ার জন্য। আপনাদের ডেন্টাল কলেজকে আমরা টান দিয়ে জাগিয়ে তুলে দেব।’
রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে এখানে সিএনজির সরবরাহ নিশ্চিত করা। হ্যাঁ, সমুদ্রে এখনো আমরা আমাদের সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের যদি তৌফিক দেন, কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করব না, ইনশাআল্লাহ। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখানেও তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। রাজশাহীর জনসভায় হাজার হাজার পুরুষ ও নারী কর্মীরা অংশ নেন।