শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের সময় সতর্ক থাকুন, ট্রাম্পকে শি জবিতে ভিসির সামনেই সাংবাদিকের ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার হামলা বাংলাদেশসহ ১৯ দেশ নিয়ে সামরিক মহড়া শুরু করল পাকিস্তান ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচন নিয়ে পোস্ট-মন্তব্য করতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা’ হাতুড়ি পেটা করে অটোরিকশা ছিনতাই, দুদিন পেরোলেও অচেতন চালক রনি সাংবাদিকদের নির্বাচনকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি সম্পাদক পরিষদের জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু, এলাকায় শোকের মাতম ‘নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, সেবাই পৌঁছে যাবে’

‘নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, সেবাই পৌঁছে যাবে’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক (‘প্রবলেম সলভিং’) প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবার পদ্ধতি এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন’ গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবা পৌঁছাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

পুরোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপটুডেট নয়। প্রশিক্ষণের ফলাফল চোখে দেখা যাচ্ছে না। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে তারা উৎসাহিত হয়।

তিনি আরও নির্দেশ দেন, ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে।

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, এটি বাংলাদেশে প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তাই ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে।

মূল কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা সমাধান এবং গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102