খুলনায় যাত্রী সেজে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গুরুতর আহত চালক রনির এখনো জ্ঞান ফেরেনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার দুই দিন পরও তার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রনির মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি এখনো অচেতন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে খুলনার খালিশপুর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন রনি। কিছুক্ষণ পর বড় মির্জাপুর এলাকা থেকে এক ব্যক্তি যাত্রী সেজে তার অটোরিকশায় ওঠে। মির্জাপুর ক্রসরোড সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ ওই যাত্রী হাতুড়ি দিয়ে রনির মাথায় একের পর এক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত।
পরে স্থানীয় লোকজন রনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং দুপুরে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বুধবার সকালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে এখনো তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রয়েছেন।
রনির স্ত্রী মুক্তা জানান, তার স্বামী অটোরিকশাচালক ও মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন এবং সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কেনেন তিনি। সেই গাড়ির আয়ের ওপরই সংসার চলত। মুক্তা বলেন, হঠাৎ এই ঘটনায় আমাদের জীবন পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গেছে। স্বামী কথা বলতে পারছে না, জ্ঞানও ফেরেনি। গাড়িটাও ছিনতাই হয়ে গেছে। চিকিৎসার খরচ আর সংসার কীভাবে চলবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান জানান, আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত ছিনতাই বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত রনির বাড়ি খালিশপুর এলাকায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো মামলা হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।