বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী এক তরুণীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার কলমাকান্দার এক যুবকের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, ওই যুবক সৌদি আরব যাবেন—এমন কথা বলে ভুক্তভোগী আরও ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা জমা দিয়ে ভিসা পাঠিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত যুবকসহ পরিবারের সব সদস্য যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ওই তরুণী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই জুবায়ের আহমেদ প্রতারণার অভিযোগ এনে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত যুবকের নাম নবী হোসেন। তিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী রাজধানীর একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসার জন্য তার বাবাকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যান নবী হোসেন। সেখানেই ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ওই তরুণী সৌদি আরবে চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পরও নবী হোসেনের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এ সময় নবী হোসেন তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের বাবকে চিকিৎসার জন্য মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ওই তরুণী বলেন, আমি বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি। ফোনের মাধ্যমে আমাকে বিয়ে করেছে। এখন টাকা নেওয়ার পর সে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছে না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অবগত রয়েছেন। সমাধানের জন্য যোগাযোগ করতে গেলে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নবী হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ বলছে—লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।