জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল মাত্র ২০০ টাকা। অথচ আগস্ট মাসে একই মিটারে বিল এসেছে ৩ হাজার টাকারও বেশি। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহক বিল পরিশোধ না করে অপেক্ষা করছিলেন, পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কখন আসবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কালিতলা মধুপুর গ্রামে বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের মিটার রিডার সবুজকে আটকে রাখেন আকবর আলী নামে এক ক্ষুব্ধ গ্রাহক। পরে তার সঙ্গে একত্রিত হন গ্রামবাসীরাও। প্রায় এক ঘণ্টা পর খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা।
এ সময় আরও ৫ ঘণ্টা ধরে তাকে আটকে রাখা হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা চলে। পরে রাতে গ্রাহকদের শর্ত মেনে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমন ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ শুধু আকবর আলীর একার নয়, মধুপুর কালিতলা গ্রামের আরও শতাধিক গ্রাহকের। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, ভুতুড়ে এসব বিল সংশোধনের জন্য বারবার অফিসে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। বাধ্য হয়ে অনেক গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে অতিরিক্ত বিলই পরিশোধ করেছেন। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, কখন সেপ্টেম্বর মাসের বিলের জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজন আসবেন।
আকবর আলী জানান, ‘আমাকে জবাব দিতে হবে, গত মাসে ব্যবহার হলো ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ, এ মাসে কীভাবে ৩৭০ ইউনিট। কোনো লাইট বাড়াইনি, ফ্যান বাড়াইনি। বিল আমি পরিশোধ করব না। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে বিলের বিষয়ে জবাব দিতে হবে।’
ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা মাহফুজ আলম। তিনি জানান, ‘গত মাসে বিল ছিল ২০০ টাকা, এ মাসে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এত গড়মিল কীভাবে হয়? আমরা অশিক্ষিত মানুষ, আমাদের ভুল হতে পারে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন শিক্ষিত, তারা কেন ভুল করবে।’
ঘটনাস্থলে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় জানান, ৫ ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় অতিরিক্ত বিল সংশোধন এবং ত্রুটিপূর্ণ মিটারগুলো বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
পরে তিনি জানান, মাঠে না এসে ঘরে বসে মিটার রিডিং বসিয়েছিলেন আগে দায়িত্বে থাকা মিটার রিডার। তাকে বহিষ্কার করে নতুন লোককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই গ্রামে এসেছিলেন বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে। তাকে গ্রামবাসী আটক করেছে। আমরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত। কয়েক মাসের মধ্যেই অতিরিক্ত বিলগুলো মিটার রিডিং এবং অফিসে জমা হওয়া মিটার রিডিং দেখে সমন্বয় করা হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হামিদুল হক জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।