বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মেট্রোরেলের ২৭ বেয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিলারে ফাটল মাটিরাঙায় বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভায় তৃণমূলকে শক্তিশালী করার আহ্বান টেকনাফে ১৪ লাখ ইয়াবাসহ দুইজন আটক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু তানোর বায়া সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, উদ্যোগ নেই সংস্কারের সিডনির ক্যামডেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশি এলিজা সীতাকুণ্ডে আগুনে সর্বস্বান্ত ৪০ ব্যবসায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রীর মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে হুমকি, বিএনপির ৪ নেতাসহ আটক ৬ অচেতন করে টাকা-মোবাইল নেওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার

তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এসডিজি ও এনসিডি লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স’ (আত্মা)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা – স্বাস্থ্যবিষয়ক) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেকোনো মূল্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু কমাতে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় হ্রাসে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, বৈশাখী টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জহিরুল আলম এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক রিয়াজ আহমদসহ অনেকে।

উদ্বেগজনক তথ্য ও এসডিজি অর্জনে বাধা

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) কারণে, যার অন্যতম প্রধান উৎস তামাক। বর্তমানে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। তামাকের কারণে প্রতি বছর দেশে ২ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং বার্ষিক অর্থ ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৪ শতাংশই রোগীদের নিজ পকেট থেকে (আউট-অফ-পকেট) বহন করতে হয়।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, তামাকের কারণে শুধু স্বাস্থ্যই নয়, এসডিজির একাধিক লক্ষ্যমাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তামাক চাষে দেশে প্রতি বছর ১ লক্ষ একরের বেশি জমি ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা (এসডিজি-২) হুমকির মুখে পড়ছে। বিড়ি কারখানার প্রায় অর্ধেক শ্রমিকই শিশু, যারা শিক্ষাবঞ্চিত ও চরম দারিদ্র্যের শিকার (এসডিজি-৪)। এছাড়া তামাক বর্জ্য ও সিগারেটের ফিল্টার সামুদ্রিক ও সামগ্রিক পরিবেশ ধ্বংসের (এসডিজি-১৪ ও ১৫) অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

সভায় আলোচকরা বর্তমানে ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান পণ্যের প্রসারকে বড় আইনি ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্বের ৪২টি দেশ এবং বেশ কিছু দেশ যথাক্রমে ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করলেও বাংলাদেশে তা এখনো আইনের বাইরে রয়ে গেছে।

এ সংকট উত্তরণে বৈঠকে কয়েকটি জরুরি সুপারিশ পেশ করা হয়:. ই-সিগারেট, ভেপ ও নতুন ধরনের তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। সম্প্রতি পাসকৃত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন। তামাক পণ্যের ওপর কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা।  তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ রোধে ডব্লিউএইচও এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ অনুযায়ী নির্দেশিকা বাস্তবায়ন।
তামাক নিয়ন্ত্রণকে কেবল স্বাস্থ্য খাত নয়, বরং আন্তঃখাতভিত্তিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৪%-এ উন্নীত হওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এনসিডি রোডে সই করার যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, তা বজায় রেখে দ্রুত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102