সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

রাশিয়ায় শিক্ষার্থী-শ্রমিকের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আত্মগোপনে নাটোরের দম্পতি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী শ্রমিক ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করে নাটোরের নলডাঙ্গার এক দম্পতি আত্মগোপনে গেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দম্পতি হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি পরিশোধের কথা বলে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন রুশ রুবেল, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫ কোটি টাকারও বেশি। তবে মিনহাজুল ইসলাম হৃদয়ের দাবি, আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি রুবেল; ৩৫ মিলিয়ন রুবেলের দাবিকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে রাশিয়ার ভোরোনেঝ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিসের (VSUFT) একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে ওই দম্পতির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পোস্টে তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

জানা যায়, হৃদয় ও রাবেয়া দুজনই রাশিয়ার VSUFT-এ পড়াশোনা করেছেন। রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষেত্রে টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন করতে বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই দম্পতি বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।

অভিযোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কেউ কেউ এ ধরনের ঘটনায় রাশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর এবং নাটোরের নলডাঙ্গা থানায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

নলডাঙ্গা থানায় দেওয়া অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, টিউশন ফি দেওয়ার জন্য তিনি ইউসিবি ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে তিন দফায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হৃদয়কে দেন। টাকা দেওয়ার পর তাকে বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে হৃদয়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন সাইফুল।

আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, ছেলেকে পড়াশোনার জন্য অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছেন। অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন দাবি করে তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে অভিযুক্ত মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে টাকা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, কয়েক মাস আগে রাশিয়ার একজন বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার লেনদেন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক মানি লন্ডারিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে জড়িত কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ঘটনায় তার অ্যাকাউন্টও আটকে যায়।

হৃদয় দাবি করেন, তার হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ রুবেল আটকে আছে। তিনি বলেন, আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার আশা করছেন।

এ বিষয়ে হৃদয়ের চাচা খালেক অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের টাকা দিয়েছেন এবং বিদেশে কেউ গেলে টাকা না দিলে তা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় তাকে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে তারা আত্মগোপনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হৃদয়ের মা রুনা আক্তার ও ছোট ভাই সিয়াম জানান, হৃদয় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতেন এবং বিভিন্ন শ্রমিকের টাকাও লেনদেন করতেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা গেছে। গ্রামে বিপুল অর্থ দিয়ে জমি কেনা এবং আলিশান বাড়ি নির্মাণের কথাও জানান তারা। তবে এসব সম্পদের সঙ্গে কথিত অর্থ আত্মসাতের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কেউ কেউ অভিযুক্তদের সম্পদ যাচাই এবং প্রয়োজন হলে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102