সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ইন্দোনেশিয়ায় বিমানবন্দরে আটকা ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার আকাশপথ। দেশটির সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মধ্যে বন্ধ রয়েছে রাজধানী জাকার্তাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক বিমানবন্দর। দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী।

জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সক্রিয় হয়ে উঠলে আকাশে বিশাল লাভার ফোয়ারা ও বিষাক্ত ছাইয়ের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ে।

আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ কিছু এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে গেছে। ছাইয়ের গতিপথ বাতাসের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। বিমান ইঞ্জিনে আগ্নেয় ছাই ঢুকে গেলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাকার্তার প্রধান সোহাকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলোতে আটকে পড়া যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন ও রিফান্ডের দাবিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা।

 

পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ছাইয়ের তীব্রতা প্রতি ৩০ মিনিট পর পর পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া গতিশীল হওয়ায় কবে নাগাদ বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক বিকল্প পথ হিসেবে ট্রেন বা সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

শুক্রবার গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ছবি: বিবিসি

এদিকে শুধু বিমান চলাচল নয়, আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। ছাই থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জাকার্তা, পশ্চিম জাভা, বানতেন ও লাম্পুংয়ের কিছু স্কুলে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। সুন্দা প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আংশিক ব্যাহত হচ্ছে।

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নতুন কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির আংশিক ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্যমতে, আগামী দিনগুলোতে আনাক ক্রাকাতাউ থেকে আরও অগ্ন্যুৎপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102