ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে চরম নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করেছে দেশটি। এর অন্যতম সদস্য হলেন আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি। তিনি খামেনির স্থলাবিষিক্ত হতে পারেন বলে যখন আলোচনা হচ্ছে, ঠিক তখনই আরেকটি গুঞ্জন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, তা হলো, আরাফিও নাকি নিহত হয়েছেন।
তুর্কি ওয়েবসাইট এভরিম আগাছি বলছে, আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি একজন জ্যেষ্ঠ আলেম এবং ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। খামেনির হত্যাকাণ্ডের দিনেই তাকে দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলে নিযুক্ত করা হয়, যেখানে তার সঙ্গে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই।
এই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য হলো যতক্ষণ না ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ একজন স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের শাসনব্যবস্থা, স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আগেই তেহরানসহ সর্বত্র অনিশ্চয়তার এক নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ে। সোমবার (২ মার্চ) বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা শুরু হয় যে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আরাফি নিজেও নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া কিছু অসমর্থিত খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় আরাফি নিহত হয়েছেন। সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক্সে দাবি করেছেন যে, ‘ইরানের ভারপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আরাফি তেহরানে নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন।’
তবে ইরানের কোনো মাধ্যম কিংবাদ আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদ মাধ্যম এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।