ভারতের রাজধানী দিল্লির পূর্ব ত্রিলোকপুরী এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ১৬ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বের একটি বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যদিও ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।নিহত কিশোরের নাম আয়ান সাইফি। পরিবারের সদস্যরা জানান, আয়ান তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি তার মাকে প্রতিদিনের কাজে সাহায্য করত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, ত্রিলোকপুরীর একটি স্থানীয় পার্কের কাছে ৬ থেকে ৮ জন সশস্ত্র যুবক আয়ানকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। নিহতের এক আত্মীয় বলেন, ‘‘তারা তাকে ঘিরে ধরে পিঠ, পেট ও পায়ে বারবার ছুরিকাঘাত করে। এমনকি তার হাতও মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিল।’’
নিহতের পরিবারের দাবি, এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ‘ভাকিল’ নামে পরিচিত এক স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কারোর বিরোধের জেরে আয়ানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। স্বজনদের আহাজারি, ‘‘কারোর সাথেই তার কোনো শত্রুতা ছিল না। অন্যের সমস্যার কারণে তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।’’
গুরুতর আহত অবস্থায় আয়ানকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে কিছুক্ষণ জ্ঞান ফিরলে পুলিশ তার জবানবন্দি রেকর্ড করে। সেখানে সে কয়েকজন হামলাকারীর নামও উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে উল্টো নিহতের পরিবারের সদস্যদেরই পুলিশ আটক করেছে। তারা আরও জানান, এর আগে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ঘনবসতিপূর্ণ ত্রিলোকপুরী এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আয়ানের মা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সে-ই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি।’’
দিল্লি পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ বা কাউকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবার অনতিবিলম্বে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।