শুক্রবার দুপুরের এই ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে বইছে শোকের ছায়া এবং তীব্র গণরোষ। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হতে রাজি নন এলাকাবাসী। নাসরাপুর এলাকায় পুনে-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার পাশাপাশি মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার এই চরম বিপর্যয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যে শিশুটি এখনও ঠিকমতো কথা বলতে শেখেনি, নিজের ওপর হওয়া এই ভয়াবহতা বোঝার ক্ষমতাও যার হয়নি—তার ওপর এমন পাশবিকতা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নাসরাপুরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পুনে-বেঙ্গালুরু হাইওয়ে অবরোধ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে থাকলেও এলাকা বাসীর দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট: তারা তাৎক্ষণিক এবং আপসহীন বিচার চান
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই শিশুটি বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধ শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, যা তাকে শনাক্ত করতে এবং আটক করতে পুলিশকে সাহায্য করেছে। এই নৃশংস অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন শিশুটির মরদেহ স্থানীয় থানার কাছে আনা হয়, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়; শোকাহত পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন এবং বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী সমবেত হয়ে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন।
একজন সমাজকর্মী বলেন, ‘‘আমি এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছি। যদিও আমরা আইনের শাসনের অধীনে চলি, কিন্তু ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টগুলো দ্রুত রায় দিতে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। যখন বিচার বছরের পর বছর বিলম্বিত হয়, তখন শাস্তির ভয় চলে যায় এবং সহিংসতার এই চক্র চলতেই থাকে।’’
পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে চালানো হবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে অভিযুক্ত হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র কয়েকদিন আগে ৩০ এপ্রিল, উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় তার ১৪ বছর বয়সী সৎ মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মরদেহ জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সেখানেও যৌন নির্যাতনের ইতিহাস পাওয়া গেছে।