দেশে আত্মগোপনে থেকে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে দাবি করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদ।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তার কথোপকথনে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে— এমনটা দাবি করেন শাম্মী আহমেদ।
গত ২২ এপ্রিল দলটির অভ্যন্তরীণ গ্রুপে আলাপকালে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের অডিওটি প্রকাশ করেছে। ৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের সেই অডিওর কিছু তথ্য রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।
অডিওতে শাম্মি আহমেদ বলেন, আমি যেভাবেই হোক, প্রকাশ্যে এ্যাম্বাসেডররা আমাদের সাথে কথা বলতে চায় না, কারণ আমরা একটা নিষিদ্ধ সংগঠন। বাট আন অফিসিয়ালি আমরা অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথা বলি, যোগাযোগ করি, তাদের সবকিছু জানাই। আজকে আমার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে, এ্যাজ অ্যা ফ্রেন্ডলি। কেননা, ওরা সবসময় আমার বাসায় আসতো, ওদের সাথে আমার একটা যোগাযোগ ছিল। সুতরাং, এই বিষয়গুলো নিয়ে যখন আমরা মিটিং করি, আমরা নোট নিয়ে আমরা (যেমন আপনারা বললেন) টপ লেবেলে জানানোর জন্য- এটা আমার ডিউটি। আমাকে এটা জানাতে হয়। আর আপনারা যে কথাগুলো বলেন, আপনাদের সাথে (যখন যেকোন প্লাটফর্মে থাকি) বলা কথাগুলো আমি নোট নিই।
অডিওতে তিরি আরও বলেন, বলবো না আমি সব কথায় লিখিস বা রেকর্ড করি; না। আমার একটা ডায়েরি আছে, সেখানে আমি আপনাদের কী ম্যানেজগুলো সেগুলো লেখার চেষ্টা করি। আমি নেত্রীকে এটা মুখে বলি না, এর মূল পয়েন্টগুলো এবং আপনাদের সাথে আলোচ্যসূচির বিষয়গুলো, এর ফিটব্যাক গুলো কি, এই মিটিং থেকে কি আউটকাম আসলো। নেত্রীরও তো এতো কথা বলার বা পড়ার সময় নেই। আবার যেহেতু ইন্টারন্যাল রিপোর্টগুলো আমরা তাকে পাঠাতে হয়, তাই আমি এগুলো উনাকে জানাই এবং রিপোর্টগুলো আমি তৈরি করে রাখি। যাতে ভবিষ্যতে আপনাদের কোনো তথ্য মিস না হয়।
আরেকটা কথা বলেছেন- ভুলে যাওয়া। আমি একটা কথা আপনাদের বলব, নেতারা কেনো আপনাদের ভুলে যাবে, আপনারা নেতাদের ভুলে যান। আপনারা নিজেদের এতো ক্ষুদ্র কেনো মনে করেন? আপনারাইতো আওয়ামী লীগ। আজকে আমরা যারা দেশে আছি, আমরাই আওয়ামী লীগ। আমিও আপনাদের সাথে আছি।