রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন, শেয়ারবাজারে ধস

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে বড় ধরনের পতন হয়েছে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি স্বল্প সময়ের জন্য ৮২ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৯.৫৯ ডলার। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১.০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩২৭ ডলারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই যুদ্ধে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথের তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই প্রবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ না হলেও এর দুপাশে অসংখ্য তেলবাহী ট্যাঙ্কার জড়ো হতে দেখা গেছে। হামলার আতঙ্ক এবং বীমা সুবিধা না পাওয়ার কারণে অনেক জাহাজ যাত্রা শুরু করতে পারছে না।

রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রধান জর্জ লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া মানে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে বাধা পাওয়া। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জাপানের নিক্কেই সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার সূচক কমেছে ১.২ শতাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের শেয়ারবাজার সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইউরোপের বাজারগুলোতেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে; ইউরোস্টক্স-৫০ ফিউচার ১.৪ শতাংশ ও ড্যাক্স ফিউচার ১.৩ শতাংশ কমেছে।

জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইউরোর দাম ০.২ শতাংশ কমে ১.১৭৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েন নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হলেও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডলারের বিপরীতে এর মান কিছুটা কমেছে।

উড ম্যাকেঞ্জির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালান গেল্ডার এই পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় তেলের দাম ৩০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম বর্তমান ৯০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি সপ্তাহটি মার্কিন অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন, খুচরা বিক্রয় এবং বেতন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাজ্যের বন্ধকী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এমএফএসের পতন ব্যাংকিং ও এআই খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এখন তাকিয়ে আছেন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102