ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। দেশটির সাবেক শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির আহ্বানে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এই বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবস পালিত হয়। মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টোসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার মিউনিখে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এক সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। ইরানের বর্তমান ইসলামি সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়ে তিনি দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান।
পাহলভি তার ভাষণে বলেন, ‘দেশের ভেতরে আমার সাহসী ও সংগ্রামী দেশবাসীকে বলতে চাই, আপনারা একা নন। আজ এই সংগ্রামে পুরো বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
ইরান সরকারকে ‘দুর্নীতিবাজ, দমনকারী ও শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, ‘একটি মুক্ত ইরানে আপনারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেবেন আমরা কত মহান জাতি।’
কানাডার টরন্টোতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে অংশ নেওয়া অনেকে জানান, ইরানে থাকা তাদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে আওয়াজ তুলতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভির মেয়ে নুর পাহলভি। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, ‘ইরানিরা এই ইসলামি শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।’
এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘খুনিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না।’
শুক্রবার সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সরকারের পরিবর্তন হবে ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’। যদিও তার এ মন্তব্য পাহলভির নেতৃত্বের প্রতি কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাহলভি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাকে ‘খুবই অমায়িক’ মনে হয়। তবে পাহলভি ইরানের ভেতরে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট সমর্থন পাবেন কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশটির ১০০টির বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ নিশ্চিত করেছে যে, এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১৫০ শিশুসহ ৬ হাজার ৮৭২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ অন্তত তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে যে তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় ১৮ বছর বয়সে দেশ ছাড়েন তৎকালীন শাহজাদা রেজা পাহলভি। প্রায় ৫০ বছর পর তিনি আবারও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চাইছেন। ইরানের ভেতর অনেক বিক্ষোভকারীকে তার নাম ধরে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।