যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
এদিকে বর্ধিত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়।
৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা আলোচনা হবে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজক আবারও ওমান হলেও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেছেন, তারা যে চুক্তি করতে আগ্রহী সেটা প্রমাণ করার দায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।
তিনি আরও বলেন, তারা যদি আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত আমরা একটি সমঝোতার পথে এগোব।
এদিকে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার পছন্দ হলো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এটা খুব কঠিন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, যদি আয়াতুল্লাহ (আলি খামেনি) আগামীকাল বলেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে দেখা করবেন। তার পছন্দ হলো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এটা খুব কঠিন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। কারণ ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র এলে তা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অঞ্চল এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এদিকে ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই এ অভিযান শুরু হবে।