কৃষ্ণসাগর উপকূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়ার তামান সমুদ্রবন্দরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়। ফলে বন্দরে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশকিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও অন্তত কয়েকটি ড্রোন সরাসরি বন্দরের কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানে।
তামান বন্দরটি রাশিয়ার শস্য এবং জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে দেশটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার পরপরই বন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার নিয়মিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফল অভিযান চালানো হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই হামলার ফলে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক আধিপত্য এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।