ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন ফজলে হুদা বাবুল। বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থী ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে তিনি জেলায় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে নজির স্থাপন করেছেন।
নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে নওগাঁ-৩ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী। বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের বদলগাছীতে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সোমপুর মহাবিহার (পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার) এবং প্রাচীন হলুদ বিহার। হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ অঞ্চল কৃষিতেও সমান খ্যাত। বিশেষ করে সবজি উৎপাদন এবং জিআই সনদপ্রাপ্ত নাকফজলি আমের জন্য এলাকাটি সুপরিচিত। এ ছাড়া সারাদেশে চাল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় জেলা নওগাঁর অধিকাংশ চালকল মহাদেবপুর উপজেলায় অবস্থিত।
অতীতে এ আসনে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রয়াত বিএনপি নেতা আকতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু। পরে দীর্ঘদিন আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর এবারের ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন ফজলে হুদা বাবুল।
টকশোতে দৃপ্ত উপস্থিতি ও সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে পরিচিত এ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিজয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ এই বিতার্কিক নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, ফজলে হুদা বাবুল যেন আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুক্লা রানী বলেন, ‘ফজলে হুদা বাবুল একজন উচ্চশিক্ষিত ও বিনয়ী মানুষ। আমরা ধর্মের ভেদাভেদ না করে তাকে ভোট দিয়েছি। তিনি এমপি হওয়ায় আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি। তাকে মন্ত্রী করলে দলের নেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।’
মহাদেবপুর উপজেলার খোর্দ্দনারায়ণপুর গ্রামের তরুণ ভোটার আসলাম হোসেন বলেন, ‘তিনি একজন দক্ষ ও বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাকে মন্ত্রী করলে অভাবনীয় উন্নয়ন হবে।’
নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘এই জয় আসলে আমার নয়; বিএনপির নেতাকর্মী, তারেক রহমান এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং গণতন্ত্রের জয়। বিএনপি জানে কীভাবে সরকার গঠন করতে হয়, দেশ পরিচালনা করতে হয়। দলের নীতিনির্ধারক ও তারেক রহমান মন্ত্রিত্ব দেওয়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। তবে আমাকে মন্ত্রী করা হলে মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করব।’
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘নওগাঁ জেলায় এর আগে ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও হুইপ ছিলেন। কৃষি ও আম উৎপাদনের জন্য আমরা সারাবিশ্বে পরিচিত। সে হিসেবে নওগাঁ একটি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার যোগ্য। ফজলে হুদা উচ্চশিক্ষিত এবং একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সিইও ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আশা করছি। তিনি মন্ত্রিত্ব পেলে গোটা নওগাঁ জেলায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সারাদেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন।’