মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের পর সংসদ নির্বাচনের পথে নেপাল, প্রচারণা শুরু

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নেপালের সংসদ নির্বাচন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুব নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর, এটাই দেশটির প্রথম নির্বাচন, যার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন সুশীলা কার্কি। যিনি নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই হিমালয়ঘেরা দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভোটের পর ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ গঠিত হবে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন দলীয় তালিকা থেকে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন শেষে নতুন নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করবেন কার্কি।

প্রায় দুই দশক ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের প্রাধান্য রয়েছে, যাদের অনেকেই ২০০৬ সালে শেষ হওয়া দশ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এখনো কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউএমএল-এর নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন।

আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠীকে একত্র করে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দেশের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেস জানুয়ারিতে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে, এতে পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার দীর্ঘ নেতৃত্বের অবসান ঘটে।

এদিকে ২০০৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এখনো কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) মাধ্যমে কিছু সমর্থন ধরে রেখেছেন।

প্রবীণ নেতৃত্বের বিপরীতে নতুন প্রজন্মের কয়েকজন আলোচিত প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।

টেলিভিশন উপস্থাপক রবি লামিছানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে (আরএসপি), যা ২০২২ সালে সংসদের চতুর্থ বৃহত্তম শক্তি হয়ে আলোচনায় আসে। তিনি জোট গড়েছেন র‌্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ওলির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন।

আরেক আলোচিত প্রার্থী কুলমান ঘিসিং, যিনি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ভূমিকার জন্য পরিচিত।

সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেন জেড প্রজন্মের মধ্য থেকেও নতুন প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের অন্যতম সুদান গুরুং।

তরুণ ভোটারদের বড় অংশ অর্থনৈতিক সংস্কার প্রত্যাশা করছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নেপালের শ্রমশক্তির প্রায় ৮২ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং ২০২৪ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১,৪৪৭ ডলার।

অর্থনৈতিক সংকটে লাখো নেপালি বিদেশে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন; সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার প্রায় ৭.৫ শতাংশ বিদেশে বসবাস করেন। যদিও প্রবাসীরা এবার ভোট দিতে পারছেন না, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপালের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুই দেশই কাঠমান্ডুতে প্রভাব বজায় রাখতে আগ্রহী।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102