জামায়াতে ইসলামীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যেখানে দলটির জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে তুলনামূলক বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আর যেখানে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেখানে ক্যামেরা কম বসানো হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং জোটের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ অভিযোগ জানিয়েছেন। পরে তিনি গণমাধ্যমেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দলটির দাবি, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতেই এ ধরনের বৈষম্য করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জুবায়ের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং নির্বাচনি বুথ ভাঙচুরের অভিযোগও তোলেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা বডি-ওর্ন ক্যামেরার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখেছি—কিছু আসনে অস্বাভাবিকভাবে বেশি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু আসনে খুব কম। আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, যেখানে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে বেশি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আর যেখানে অন্য একটি দলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে খারাপ, সেখানে ক্যামেরা কম। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনরায় যাচাই (ক্রসচেক) করার দাবি জানানো হয়েছে। এটি কাকতালীয়, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো সিদ্ধান্ত—তা খতিয়ে দেখা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শুধু আশ্বাস নয়, জাতি দেখতে চায় নির্বাচন কমিশন বাস্তবে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আটক প্রসঙ্গে জামায়াতের অভিযোগ:
বৈঠক শেষে জামায়াতের এক নেতাকে আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ওই নেতাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
জুবায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নেতা ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল অতিক্রম করার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ পরীক্ষা করেন এবং সেখানে কোনো অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি। ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নগদ অর্থ বহন করা স্বাভাবিক এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও অভিযোগ করেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশ পরিকল্পিতভাবে কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিককে ডেকে এনে একটি ‘নাটক’ সাজিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগেও কুখ্যাতির অভিযোগ রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় জামায়াতের ওই নেতাকে নাজেহাল করা হয়েছে এবং পরে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
এ ছাড়া জুবায়ের কুমিল্লা-৪ আসনে এক বিএনপি নেতার হুমকিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, হাত-পা ভেঙে দেওয়ার মতো বক্তব্য কোনো প্রার্থী দিতে পারেন না। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগ বারবার নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শুধু আশ্বাসে হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা জাতি প্রত্যাশা করে।