ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের দিন রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় আনসারের সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক দলনেতা টাকা নিয়ে অবৈধভাবে শতাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সংশ্লিষ্ট ৩৩০ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অযোগ্যতা বরদাশত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে দায়িত্ব নিশ্চিত করার নামে জনপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদারকি ও প্রাথমিক তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের সবাইকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনী।
এদিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার সদস্যের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ধরা পড়ে। তারা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদেরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আরও দুটি এলাকায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই নারী দলনেত্রীকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গুলশান থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আনসার কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে আনসারের সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের বেশি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।