মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার মধ্যে টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ইরান। নেটব্লকসসহ একাধিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ২০ জুনের পর থেকে ইরান কার্যত বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সংযোগ বিচ্ছিন্নতা। এমনকি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভেও এমন অবস্থা দেখা যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সাইবার হামলার সম্ভাবনা ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে এটি ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ বলেই দাবি করা হয়েছে।
নেটব্লকসের গবেষণা পরিচালক ইসিক মাতের বলেন, “২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম আমরা ইরানে এতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে দেখছি।”
বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও জানাচ্ছে, ইরানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় তথ্য যাচাই, সাধারণ মানুষের কণ্ঠ শোনা ও মাঠের বাস্তবতা বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে তথ্য নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি সাইবার হামলা প্রতিরোধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঠেকাতেই ইরান এই ‘ডিজিটাল নীরবতা’ সৃষ্টি করেছে। তবে এতে ইরানের সাধারণ জনগণ নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও সমালোচনা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, নেটব্লকস