চট্টগ্রাম নগরে এক যুবককে হত্যার পর দেহ পাঁচ টুকরো করে বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম আনিস। এ ঘটনায় তার ‘প্রেমিকা’ সোফিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার থেকে আনিস নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রথমে তার দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নগরের অক্সিজেন মোড় এলাকার লোহারপুলসংলগ্ন খাল থেকে নিহতের মাথা উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী কমিশনার মারুফুল করিম বলেন, ‘নিহত আনিস মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত করে তদন্ত শুরু করা হয়। শুক্রবার বিকেলে খাল থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রেমিকা সোফিয়াকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সোফিয়া নামের ওই নারী আনিসকে ডেকে নেন। সেখানে শিলপাটা দিয়ে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর দেহ পাঁচ টুকরো করে নগরের বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়া হয়। মাথাটি ফেলা হয় অক্সিজেন মোড়সংলগ্ন লোহারপুল এলাকায়।
নিহত আনিস রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। তার স্বজনদের দাবি, সোফিয়ার কাছে আনিস প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাইলে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে সোফিয়ার স্বজনদের দাবি, আনিস তার প্রেমিকা সোফিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা আয়াত নামের এক শিশুকে হত্যার পর ছয় টুকরো করে সাগরপাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তার পরের বছর হাসান নামের আরেক বৃদ্ধকে তার স্ত্রী-সন্তান ও পুত্রবধূ মিলে হত্যা করে কয়েক টুকরা করে খালে ফেলে দিয়েছিল। গ্রেপ্তার পুত্রবধূর ‘তখন আমার বিবেক কাজ করেনি, আবেগ কাজ করেছিল’—উক্তিটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক ভাইরাল হয়।