সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে দুই বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অস্ত্র আইন কঠোর করছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনে বিল পাস করা হয়েছে। এর আগে দেশজুড়ে জনগণের হাতে থাকা অস্ত্র ফেরত নিতে ‘গান বাইব্যাক’ কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার।
পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ৯৬ এবং বিপক্ষে পড়ে ৪৫ ভোট। প্রস্তাবটি এখন সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, বন্ডাইয়ে হামলার আগে এমন অস্ত্র আইন চালু থাকলে বন্দুকধারীরা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেতে পারত না। বন্ডাই হামলার ঘটনায় দুই হামলাকারী বাবা ও ছেলের একাধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক ছিল।
গত বছর ১৪ ডিসেম্বরে সৈকতে ইহুদি উৎসব হানুক্কা চলার সময় জড়ো হওয়া মানুষের ওপর বন্দুকধারীরা গুলি চালালে ১৫ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়।
সেই হামলার পরই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ ঘোষণা করেছিলেন যে, দেশে আগ্নেয়াস্ত্র আইন কঠোর করা হবে। নতুন বছর শুরু হতেই পার্লামেন্টে আইন পাস করে সে উদ্যোগ নিলেন তিনি।
তবে বিবিসি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় কেবল অস্ত্র কেনাবেচা সংক্রান্ত আইনই কঠোর করা হচ্ছে না, বরং নতুন বিলে ঘৃণা বক্তব্য নিয়ে কড়াকড়ির প্রস্তাবও আছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে আইন সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :
* আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে আগের চেয়েও কঠোর আইন প্রণয়ন
* নতুন আগ্নেয়াস্ত্র কেনায় আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা
* লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা কমানো
* আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গোয়েন্দা দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং জরুরি তথ্য জানানো
* ঘৃণা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে আরও কড়া আইন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, ‘গত ১৪ ডিসেম্বর যারা বন্ডাই সৈকতে হামলা করেছিল, তাদের মাথা ও মগজ ছিল ঘৃণায় পরিপূর্ণ আর হাতে ছিল বন্দুক।’
প্রস্তাবিত বিলে ঘৃণা ছড়ানো গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে এবং দুই বছর পরপর পার্লামেন্টের যৌথ কমিটি এ নিয়ে পর্যালোচনাও করবে।
তা ছাড়া, চরমপন্থি সংগঠনগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনারও বিধান রাখা হয়েছে বিলে।