ব্রিটেনের রাজনীতিতে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উপযুক্ত সময়েই দায়িত্ব ছাড়বেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল রোববার একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টারমার বুঝতে পারছেন বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই তিনি নিজের সিদ্ধান্ত ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী সম্মানজনকভাবে সরে যেতে চান। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
বর্তমানে লেবার সরকারের ওপর জনঅসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন বিতর্ক, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফল স্টারমারের নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে পিটার মেন্ডেলসনকে ঘিরে সমালোচনা এবং জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সংকট আরও তীব্র হয় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর। শনিবার তিনি জানান, লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য তিনি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্ট্রিটিং।
একইসঙ্গে তিনি স্টারমারকে দ্রুত বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বানও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জনমত জরিপেও স্টারমারের জনপ্রিয়তায় বড় ধসের ইঙ্গিত মিলেছে। ইউগভ ইউকের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীদের একজন হয়ে উঠেছেন স্টারমার। অনেকে তার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের স্বল্পমেয়াদি শাসনামলের তুলনাও করছেন।
এদিকে, লেবার পার্টির ভেতরেও স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দলটির অনেক এমপির আশঙ্কা, জনপ্রিয়তা কমতে থাকলে আগামী নির্বাচনে লেবারের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান আরও জোরালো হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।