শনিবার (১৬ মে) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মুখপাত্র কারেন কুও এ ঘোষণা দেন।
তবে স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করলেও তাইওয়ান ‘ক্রস-স্ট্রেট স্ট্যাটাস ক্যু’ বা তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে। যার অর্থ, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছ থেকে নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবে না। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেও এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, তার দ্বীপরাষ্ট্রটি আগে থেকেই স্বাধীন, তাই নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই।
শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেইয়ার’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি তাইওয়ানকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আপনারা তো জানেনই, একটি যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাইছি না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছি না। পরিস্থিতি এখন যেমন আছে তেমনই যদি রাখা হয়, তবে আমার মনে হয় চীন তাতে সম্মত থাকবে। কিন্তু আমরা এমনটা চাচ্ছি না যে, কেউ এসে বলুক, ‘চলুন আমরা স্বাধীন হয়ে যাই কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পেছনে আছে।’
অবশ্য এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে ‘কোনো পরিবর্তন আসেনি’।
এর আগে বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দেন শি জিনপিং। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান হলো চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শি জিনপিং বলেন, এই বিষয়টি যদি ভুলভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে দুই দেশ পরস্পরের মুখোমুখি হতে পারে বা এমনকি সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে, যা সমগ্র চীন-মার্কিন সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার ব্যাপারে চীনা প্রেসিডেন্ট খুবই কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। তবে ট্রাম্প জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের যে হুমকি চীন দিয়ে আসছে, তা মোকাবিলায় মার্কিন নিরাপত্তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য তাইওয়ান সরকারকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ‘চীনের ওপর নির্ভর করে’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘দর–কষাকষির দারুণ এক হাতিয়ার’।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। ট্রাম্প সেটি স্বাক্ষর করবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমি এখনো এটি অনুমোদন করিনি। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।
এদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের পার্লামেন্ট ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল অনুমোদন করেছে, যার একটি বড় অংশ মার্কিন অস্ত্র কেনায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা।
শনিবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নীতি ও অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের অধীনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, অস্ত্র বিক্রি কেবল মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিই নয়, বরং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে একটি যৌথ প্রতিরোধ।







