সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করল কুখ্যাত ‘সুমন বাহিনী’ খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য বাগেরহাটের খালিদ সাইফুল্লাহ বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে সকল পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছাত্রলীগ নেতা সারফুল ইসলামের পাতানো ফাঁদে ছাত্রদল! ডায়মন্ড সিমেন্টের ডিলারদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : নৌপরিবহন মন্ত্রী ৭ জুনের বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আলেমদের ওপর অত্যাচার-জুলুম হতে দেব না: ধর্মমন্ত্রী ব্যাট-বলে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ

কুমারী নারীর নীরবতাকেই বিয়ের সম্মতি ধরা হবে আফগানিস্তানে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন একটি পারিবারিক আইন কার্যকর করেছে, যেখানে বিয়ে, তালাক, অভিভাবকত্ব ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে সংক্রান্ত নানা বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালেবানের ইসলামিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরি এই আইন ইতোমধ্যেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

‘দম্পতিদের পৃথকীকরণ নীতি’ নামে ৩১ ধারার এই ডিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছেন তালেবানের শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নথিতে বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধ, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলের বিভিন্ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, কোনো অবিবাহিত বা কুমারী মেয়ের নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা আগে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

নতুন এই বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, পরিবারের উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে তখনই বৈধ হিসেবে গণ্য হবে, যদি পাত্রকে সামাজিকভাবে উপযুক্ত মনে করা হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

আইনে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা বয়ঃসন্ধির পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায়, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া কোনো বিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাতিলের আবেদন করতে পারবে। তবে এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এছাড়া সঙ্গীকে অনুপযুক্ত মনে হলে বা মোহরানায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেই বিয়েকে অবৈধ ঘোষণার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ডিক্রিতে তালেবান বিচারকদের ব্যভিচার, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ‘জিহার’ এমন একটি প্রথা, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন, যাকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

এসব বিধানের আওতায় বিচারকরা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী ও মেয়েদের অধিকার সীমিত করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। নতুন এই পারিবারিক আইন সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102