সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

মাদুরো দম্পতির মুক্তির দাবিতে উত্তাল ভেনেজুয়েলা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে তাদের অপহরণ করে ওয়াশিংটন। মার্কিন বাহিনীর হাতে মাদুরো দম্পতি অপহৃত হওয়ার ঠিক এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে ‘গ্রান মার্চ’ বা ‘মহাসমাবেশ’ শিরোনামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ‘ভেনেজুয়েলার জন্য নিকোলাসকে প্রয়োজন’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি অপহৃত প্রেসিডেন্টের ছবিসংবলিত ব্যানার ও টি-শার্ট পরে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

কারাকাসের এই সমাবেশে বক্তব্য দেন মাদুরোর ছেলে এবং ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির সদস্য নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক তার পিতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে আজীবন এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে। একটি বিদেশি সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার পবিত্র মাটি অপবিত্র করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরকারি আহ্বানে আয়োজিত এই পদযাত্রায় বিপুল সংখ্যক সরকারি চাকরিজীবীও অংশ নেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল একটি ‘বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবস’-এর অংশ, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সংহতি প্রকাশকারীরা ‘ভেনেজুয়েলা থেকে হাত তোলো’ স্লোগানে মাদুরো দম্পতির আটকাদেশকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মাদুরো সমর্থকদের শান্ত রাখা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর দাবিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে তাকে চলতে হচ্ছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের খনির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিলেই কেবল তিনি রদ্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এরই মধ্যে রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের প্রতি নমনীয় সুর বজায় রেখে কয়েকশ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন এবং জাতীয়করণ করা জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছেন।

একই দিনে কারাকাসে আরও একটি পৃথক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েকশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনরা অংশ নেন। তারা রদ্রিগেজ প্রশাসনের প্রতিশ্রুত সাধারণ ক্ষমা আইন দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী এই আইনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মুক্তির অঙ্গীকার করেছিলেন, তবে সেই বিলটি এখনো দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার রাজনীতি এখন চরম অনিশ্চয়তা আর জনবিক্ষোভের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102