বাংলায় ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। পরিবর্তনের জোয়ারে প্রথমবারের মতো রাজ্যে ‘পদ্ম ফুটেছে’ বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এদিকে ভোটে জয় পাওয়ার পরই খবর রটেছে, কে হবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সে নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে একাধিক নাম সামনে আসতে শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৫ বৈশাখ (৯ মে) রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে রাজভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইতোমধ্যে রাজ্যে পৌঁছেছেন নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এস. জোশী। আগামীকাল, মঙ্গলবার চূড়ান্ত বিধানসভা তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর বুধবার গেজেট নোটিফিকেশন নিয়ে মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং কমিশনের প্রতিনিধিরা রাজভবনে যাবেন। সেখানেই শপথগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বঙ্গজয় নিশ্চিত হতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ফোনালাপের পরই সকল বিজয়ী বিধায়কদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয়েছে, যেখানে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হতে পারেন।
শপথগ্রহণের দিন হিসেবে রবীন্দ্রজয়ন্তীকে বেছে নেওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো নির্বাচনি প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাংলাবিরোধী’ ও ‘অবাঙালি’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলেও প্রচার চালানো হয়। তবে জয়ের পর সেই ভাবমূর্তি বদলাতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। তাই ২৫ বৈশাখে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ওই দিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাঙালি সাজে জনসমক্ষে দেখা যায়, যা নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।