তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে থালাপতি বিজয়ের উত্থান তাকে অতীতের চলচ্চিত্র তারকাদের থেকে আলাদা করেছে। তার দল টিভিকে (তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম) একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার স্পষ্ট বার্তা, স্বতন্ত্র অবস্থান এবং তরুণদের সঙ্গে শক্তিশালী সংযোগ- এসবই তাকে এমন জায়গায় সফলতা এনে দিয়েছে, যেখানে অন্য জনপ্রিয় অভিনেতারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রবেশ নতুন কিছু নয়। এমজিআর ও জয়ললিতার মতো কিংবদন্তিরা সফলভাবে চলচ্চিত্র জগত থেকে রাজনীতিতে এসে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে অনেকেই সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজয় হয়তো সেই ধারা ভেঙে দিয়েছেন, কারণ তার দল টিভিকে ইতোমধ্যে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।
বিজয় শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তার রাজনীতিতে আসা কোনো প্রতীকী পদক্ষেপ নয়। চলচ্চিত্র থেকে সরে এসে পুরোপুরি জনসেবায় মনোনিবেশ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি তার আন্তরিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন।
৭০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
এর বিপরীতে রজনীকান্তের রাজনৈতিক প্রবেশ দেরিতে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়, যা অনেক সমর্থকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। অন্যদিকে কমল হাসানের দল নির্বাচনে অংশ নিলেও তা ভোটকে স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়।
বিজয়ের অন্যতম বড় কৌশল ছিল টিভিকেকে দ্রাবিড়ীয় দুই প্রধান দল—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—থেকে আলাদা একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। শুরু থেকেই জোট এড়িয়ে চলার মাধ্যমে দলটি একটি স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এটি বিশেষ করে শহুরে ভোটার এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকা তরুণদের আকৃষ্ট করেছে। দুর্নীতি বিরোধিতা ও সুশাসনের বার্তা প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হতাশ জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
৫১ বছর বয়সী বিজয়কে অনেকেই তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতা হিসেবে দেখেন। তামিলনাড়ুর বড় অংশের ভোটার ৪০ বছরের নিচে হওয়ায় এই বয়সগত সামঞ্জস্য তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
তার ভক্তরা, বিশেষ করে ৩০–৪০ বছর বয়সী তরুণরা, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এতে তার বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান শুধু প্রতিবাদী ভোট বা তারকাখ্যাতির ফল নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত কৌশল, স্পষ্ট বার্তা এবং সময়োপযোগী রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয়।
টিভিকে এখন রাজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায়, বিজয়ের যাত্রা ইঙ্গিত দেয় যে কেবল তারকাখ্যাতি যথেষ্ট নয়; তবে সঠিক কৌশল ও জনসংযোগের মাধ্যমে তা পুরো রাজনৈতিক চিত্রই বদলে দিতে পারে।