শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) তহবিলের অব্যবহৃত অর্থের হিসাবে গড়মিল রয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানির ভবন নির্মাণ কাজে অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে বলে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছর ৩১ জুলাই পর্যন্ত আইপিও তহবিল ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছেন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান পিনাকী এণ্ড কোম্পানী। এরমধ্যে আইপিওর অর্থ নির্দিষ্ট ডেডিকেটেড ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে সাধারণ হিসাবে রাখা, আইপিওর অব্যবহৃত টাকার হিসাবে গড়মিল, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ কাজে অতিরিক্ত ব্যয় সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, যেসব কোম্পানি আইপিও তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম করেছে এবং যেসব কোম্পানির তহবিলের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের কোম্পানি সচিব মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘‘গত ডিসেম্বরেই আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। অডিটর রিপোর্টে কেন অব্যবহৃত হিসাবে গড়মিল বলছে সেটি বলতে পারব না।’’
আইপিওর অর্থ সাধারণ হিসাবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের আইপিওর তহবিলের অর্থ একটি নির্দিষ্ট ডেডিকেটেড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা বাধ্যবাধকতা ছিল। সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস সেই নিয়ম না মেনে আইপিও তহবিলের টাকা একটি অননুমোদিত সাধারণ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে সেই অর্থ কোম্পানির অন্যান্য সাধারণ তহবিলের সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকের আসল ক্লোজিং ব্যালেন্সের সঙ্গে আইপিওর অব্যবহৃত টাকার হিসাবে গড়মিল রয়েছে বলে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অনুমোদন ছাড়াই বাড়তি টাকা খরচ নিরীক্ষার সময়ে ভবন নির্মাণে কোনো ব্যয় করা হয়নি বলে প্রতিবেদন বলা হয়ছে। তবে ‘সিভিল কনস্ট্রাকশন’ বা ভবন নির্মাণ খাতে চলতি বছর ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬ কোটি ৫ লাখ ৩২ হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। যা আইপিও প্রসপেক্টাস ও সংশোধিত পরিকল্পনায় বরাদ্দ করা অর্থের চেয়ে ১০৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ ভবন নির্মাণে নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বেশি খরচ করা হলেও সেজন্য শেয়ারহোল্ডার কিংবা শেয়রবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
তহবিল স্থানান্তর ও অন্যান্য ব্যয় কোম্পানিটি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম ইজিএমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানিটি ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্ট’এর উদ্দেশ্যে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট অব্যবহৃত অর্থের ৭৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪০ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা ব্যবহার করেছে। কোম্পানির আইপিওর অব্যবহৃত ২ কোটি ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৮ টাকা ‘যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম’ খাত থেকে ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বা চলতি মূলধন খাতে স্থানান্তর করে। তবে এই অর্থ ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা ইজিএম প্রস্তাবে উল্লেখ করা ছিল না।
তবে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ৯ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৬২ টাকা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং আইপিও সংক্রান্ত খরচে ২ কোটি ৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যবহার করেছে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাস শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আইপিও তহবিল ব্যবহারের প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বাজার থেকে সংগ্রহ করা টাকা দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, কারখানার ভবন নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ খাতে ব্যয় করার জন্য এই অর্থ উত্তোলন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।