রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

ভোলার গ্যাসে বিদ্যুৎ হলেও আঁধার দূর হয়নি ভোলাবাসীর

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোলা জেলার গ্যাসে উৎপন্ন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও  গ্যাসসমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলাবাসী তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় একদিকে সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​জেলার বোরহানউদ্দিনের দক্ষিণ কুটুবা এলাকায় অবস্থিত বিপিডিবির গ্যাসভিত্তিক ‘ভোলা-১’ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২২৫ মেগাওয়াট এবং একই এলাকায় নূসতান নামে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। অন্যদিকে খেয়াঘাট এলাকার রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ক্ষমতা শুরুতে ৩৪.৫ মেগাওয়াট থাকলেও পরে তা ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ভোলা সদরে পুরোনো ৮ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক প্ল্যান্টটি ২০২০ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

​জেলায় উৎপাদিত ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এবং সেই গ্রিড থেকেই পুনরায় ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

ভোলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের ৫ লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ৪ লাখ ৩৫ হাজার। পুরো জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৯২ থেকে ১২০ মেগাওয়াট। অথচ বিপুল উৎপাদনের বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

 

​এ পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ইলিশা বরফ কলের সত্ত্বাধিকারী মোর্শেদ আলম আক্ষেপ করে বলেন, ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে। অথচ ভোলায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের বরফ কলের ব্যবসা এখন বন্ধের পথে। একই আক্ষেপ ঝরে পড়ে লালমোহনের ব্যবসায়ী রিজভী সাকিলের কণ্ঠে। তিনি বলেন, লোডশেডিং তো এখন প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বিদ্যুৎনির্ভর, কিন্তু যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় নেই।

​ভোলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছি। বর্তমানে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে। তবে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অপর প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​ভোলার নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি যৌক্তিক অংশ যেন সরাসরি ভোলাতেই সরবরাহ করা হয় এমন দাবি জেলার সচেতন মানুষের।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102