মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্ত্রী রিনা বেগমকে (৩২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী মো. সুমন সরকারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি এলাকার মো. সুমন সরকারের বসতঘরে তার স্ত্রী রিনা বেগমের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় গজারিয়া থানা পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
নিহত রিনা বেগম উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মো. ইব্রাহিমের মেয়ে। প্রায় ১৭ বছর আগে সুমন সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সুমন পেশায় রংমিস্ত্রি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুমন ও রিনার মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এর আগে সুমন তার স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে এসে স্ত্রীকে খাবার দিতে বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমন পাশের কক্ষে ঘুমান।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে সুমন স্ত্রী যে কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, সেখানে গিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। পরে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করেন। ফজরের নামাজের সময় পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান।
পুলিশ জানায়, এরপর সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা এলাকায় অবস্থান করেন। গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরে তিনি ঢাকার দিকে রওনা হলে গজারিয়া থানা পুলিশের অপর একটি দল টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই সাফায়েত হোসেন (২৩) বাদী হয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর গজারিয়া থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার মো. সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া থানার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি এলাকার বাছেদ সরকারের ছেলে।