৩৫ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত ও নতুন করে সংসার শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের রমজান আলী (৫৫। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়ে লাশ হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তিনি।
নিহত রমজান আলী নডালিয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন রমজান। তার পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে চলতি সপ্তাহেই দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছার কথাও স্বজনদের জানিয়েছিলেন তিনি।
নিহতের বোন মিলি আক্তার বলেন, ভাই বলেছিল দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবে এবং বিয়ে করে সংসার করবে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
গত রোববার পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে রমজান নিহত হন। বর্তমানে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনদের প্রত্যাশা, শেষবারের মতো হলেও প্রিয় মানুষটিকে মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।