কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্টে জানান, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথের হুমকিগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, সাধারণ মানুষ যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনছেন, তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সরকারের দেওয়া যাবতীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিক ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। হামলায় অন্তত একটি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। তবে এ হামলার সার্বিক বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানের লারাখ দ্বীপে মার্কিন হামলার ঘটনায় প্রায় এক মাস পর নতুন করে আবারো সংঘাত শুরু হয়। মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ইরাক, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নতুন করে কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু করল তেহরান।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইরান জোর দিয়ে বলেছে, তাদের হামলা কুয়েতের সাধারণ জনগণের ওপর নয়, বরং কুয়েতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং তারা দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনীর অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেছে।
বুধবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন কমান্ডারের হেডকোয়ার্টার্স ও আবাসন এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।