বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিল্লিতে মুসলিম তরুণীকে হত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ স্বামী অঙ্কিতের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত জবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মানববন্ধন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অভিযান, ৮৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক এক সপ্তাহ শান্ত থাকবে ইরান-ইসরাইল: ট্রাম্প বাংলাদেশ হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে নতুন সমন্বয়ের বার্তা জার্মানিতে বিএনপির উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন নির্বাচনের পর গাড়ি-বাড়ি সব লাগে জামায়াতের : রাশেদ খান বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন কাতালোনিয়ার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে প্রেম, উত্তরাখণ্ডে দলিত তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

বাংলাদেশে গৃহপালিত প্রাণীতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি : বাকৃবির গবেষণা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে এর উৎস নিয়ে বিজ্ঞানীরা ছিলেন অনিশ্চিত। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ভাইরাসটি বাদুর থেকে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণীর শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং প্রাণীর সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক ২০২১ সালে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। 

দেশের আটটি জেলার ১,০২৮টি প্রাণির (গরু, ছাগল, ভেড়া এবং পোষা কুকুর) রক্ত ও নসিকার সোয়াব পরীক্ষা করে এই গবেষকদল। আরটি-কিউপিসিআর এবং অ্যান্টিবডি টেস্ট, উভয় পদ্ধতির মাধ্যমে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কোনো নমুনাতেই সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে থাকা এসব গরু, ছাগল, ভেড়া এবং পোষা কুকুর ও বিড়ালের দেহে মেলেনি কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি।

এই ফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের গবাদি পশুপাখি থেকে মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে আরও বিস্তরভাবে এসব প্রাণিসহ অন্য সব প্রাণীতে গবেষণা চালালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার বা নিশ্চিত হবে বলে গবেষক দলটি মতামত দেয়।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান। গবেষক দলে আরও ছিলেন প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভিন এবং মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল প্রতিক সিদ্দিক। গবেষণা প্রতিবেদনটি জার্মান জার্নাল অব মাইক্রোবায়োলজি নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে একটি স্বল্প-প্রবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) অর্থায়নে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-আক্রান্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করে ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ সময় মোট ৫৫২টি গরু, ১৩৫টি ভেড়া, ১১২টি ছাগল, ১১৮টি বিড়াল এবং ১১১টি কুকুর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৪৬৫টি মলের নমুনা, ৩৬৩টি নাকের সোয়াব এবং ২০০টি রক্তের নমুনা ছিল।

পরীক্ষাগারে এসব নমুনা আরটি-কিউপিসিআর এবং অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। আরটি-কিউপিসিআর পরীক্ষায় চীনের সানশিওর বায়োটেকের কিট ব্যবহার করে ভাইরাসের ওআরএফ১এবি এবং এন জিন শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ার সুজেনটেকের এসজিটিআই-ফ্লেক্স আইজিএম/আইজিজি কিট ব্যবহার করে রক্তের সিরামে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি যাচাই করা হয়। সব পরীক্ষায় ফল আসে নেগেটিভ, কোনো নমুনাতেই সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভাইরাসের চরিত্র বদলালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই তারা গবেষণার ধারাবাহিকতা ও নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন পাশাপাশি, কোভিড আক্রান্ত পরিবারের প্রাণির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এই গবেষণা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য, পশুপালন এবং মহামারি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ভবিষ্যতের ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এটি একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102