সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘মামা-খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দিন বলেন, কোটার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এখন ‘ভাইভা’ নামক নতুন একটি কোটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রসমাজ এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ছাত্রবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। একইভাবে বর্তমান প্রশাসনও যদি শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ছাত্রসমাজ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করছে। যদি মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন না করে আবারো পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা তা কঠোর হাতে প্রতিরোধ করব।
প্রসঙ্গত, গত রোববার প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান (৫০-৫০) করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রক্সি পরীক্ষা বা নিয়োগ জালিয়াতি রোধের যুক্তি দেখিয়ে এই বিধিমালার প্রস্তাব করা হলেও সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা একে মেধা হরণের নতুন পথ হিসেবে দেখছেন।