২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহালের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আইন যদি ফিরিয়ে আনতেই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে আনা উচিত। বর্তমান সংসদ অক্ষরে অক্ষরে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে ৩১ দফার সঙ্গে বেঈমানি এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদেও এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ভোটে সংসদে গিয়ে যারা ধানক্ষেতে-পাটক্ষেতে ঘুমানোর ইতিহাস দেখেছেন, তারা আজ সেই ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম, গুলি ও ক্রসফায়ারের ইতিহাসও তারা ভুলে গেছেন।
তিনি বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সঙ্গে ছলচাতুরি করছেন। ভুলে গেলে চলবে না, আবারও মুচলেকা দিতে হতে পারে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানুষের হৃদয়ে এবং দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয়ে গেছে; কয়েকটি কলমের খোঁচায় সেই রায় বাতিল করা যাবে না।
সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নে তা পূরণ হয়নি। বরং আরও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠছে, তদন্ত যদি সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশের হাতেই থাকে, তাহলে তা প্রহসনে পরিণত হবে। গুমের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, নতুন আইনে ভবিষ্যতে নানা জটিলতা ও বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন—এই তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসেন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।