২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জিরো’ সিনেমার পর থেকেই বড় পর্দা থেকে দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। মাঝের এই সময়ে করোনা মহামারি এবং দুই সন্তানের জন্মÍ সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে কাটিয়েছেন তিনি। ঝুলন গোস্বামীর বায়োপিক ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর কাজ শেষ করলেও সেটি এখনও মুক্তির মুখ দেখেনি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক বড় চমক নিয়ে পর্দায় ফিরলেন বিরাট-পতœী।
সম্প্রতি একটি গয়নার ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কামব্যাক করেছেন আনুশকা। সবুজ রঙের পোশাকে এক ছোট্ট শিশুর সঙ্গে এই বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। তবে সন্তানদের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে আনুশকা ও বিরাট বরাবরই সচেতন, তাই বিজ্ঞাপনের ওই শিশুটি তাদের কন্যা ভামিকা নয়। প্রিয় অভিনেত্রীকে দীর্ঘ সময় পর পর্দায় ফিরে পেয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকলেও, আনুশকার নতুন লুক দেখে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজ্ঞাপনে আনুশকার চেহারা দেখে নেটিজেনদের একাংশ হতবাক। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি কি নতুন করে কোনও কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন? কারও মতে তার মুখ দেখতে মোটেও স্বাভাবিক লাগছে না, আবার কেউ লিখেছেন যে তাকে চেনাই যাচ্ছে না। তবে এই সমালোচনার ভিড়ে অনেকেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে এক নেটিজেন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আনুশকা বর্তমানে দুই সন্তানের মা। প্রসব-পরবর্তী সময়ে শারীরিক পরিবর্তন এবং আগের মতো ফিট হওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নিয়ে সহানুভূতি দেখানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আনুশকার অনুরাগীরা অবশ্য কোনও বিতর্কেই কান দিতে রাজি নন; তাদের কাছে প্রিয় তারকাকে পর্দায় দেখতে পাওয়াটাই সব থেকে বড় আনন্দের খবর।
২০০৮ সালে ‘রব নে বানা দি জোড়ি’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আনুশকা ‘পিকে’, ‘দিল ধড়কনে দো’ বা ‘পরী’-র মতো একাধিক সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে তার কামব্যাক বিজ্ঞাপনটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, আনুশকাকে ঘিরে চর্চা এখন তুঙ্গে। আনুশকা ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তার আগামী সিনেমা ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর আনুষ্ঠানিক মুক্তির ঘোষণার জন্য।
২০১৭ সালে ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আনুশকা। ২০২১-এ তাদের কোলে আসে কন্যা ভামিকা এবং ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে জন্ম হয় পুত্র অকায়ের। এরপরই এই তারকা দম্পতি স্থায়ীভাবে লন্ডনে পাড়ি জমান। শোনা যায়, ভারতে অতিরিক্ত প্রচারের আলো থেকে দূরে সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে বড় করতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের বাইরে থাকায় নতুন কোনও সিনেমার চুক্তিতে আনুশকা সই করছেন না।
আনুশকার এই দূরত্ব কি তবে পরিকল্পিত? বহু বছর আগে এক টক শোতে অনুষ্কা জানিয়েছিলেন যে, তার কাছে বিয়ে এবং সন্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিয়ে করতে চাই, সন্তান চাই। সম্ভবত বিয়ের পর আমি আর কাজ করতে চাইব না।’
আজকের প্রেক্ষাপটে আনুশকার সেই পুরনো কথাগুলোই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিচ্ছে। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সংসারের টানে কাজ কমিয়ে দেওয়া বিরল হলেও আনুশকা সেই পথেই হাঁটছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
আনুশকা শর্মার কামব্যাকের আশায় প্রহর গুনছেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। কিন্তু ঘরনি ও জননী হিসেবে তিনি যেভাবে নিজের জগত গুছিয়ে নিয়েছেন, তাতে রূপালি পর্দায় তার ফেরা এখন কেবল সময়ের নয়, বরং তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।