ভোলার মনপুরায় ১০ বছরের মেয়ের সামনে এক গৃহবধূকে (৩০) দলবদ্ধ ধর্ষণের পর মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর বাবাকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. মিরাজকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী চর এলাকায় মহিষ পালনের কাজ করেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন। বাড়িতে দুই সন্তানসহ একাই থাকতেন ওই গৃহবধূ। গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে মিরাজসহ ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত প্রথমে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।
ব্যর্থ হয়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ১০ বছরের শিশু কন্যার সামনেই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। যাওয়ার সময় তারা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর অপরাধীদের ধরতে ওত পেতে ছিলেন ভুক্তভোগীর বাবা। ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা আবারও ওই বাড়ির কাছে এলে তিনি মিরাজকে চিনে ফেলেন এবং ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় মিরাজ তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী পাঠায়।
মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মিরাজসহ অজ্ঞাতনামা তিন চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই আমরা প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।