জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয়ের খবর প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করা হবে।
প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত পে-স্কেল এতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে এই অসন্তোষ আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, যা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেই সরকারকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেখা দিলে তা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে। ফলে নতুন করে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থসংস্থানের চাপ বেড়েছে।
বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটজনিত বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য পে-স্কেল ইস্যুটি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। তবে সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্য রক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে।