শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

বন্দে মাতরম গাইতে অস্বীকার: দুই মুসলিম নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাউন্সিলরদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। বিজেপি কাউন্সিলরদের দাবি, এই দুই নারী প্রতিনিধি অধিবেশন চলাকালীন বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর অধীনে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাম স্নেহি মিশ্র জানান, ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে অস্বীকার করায় হাউসের ভেতরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গত ৮ এপ্রিল ইন্দোর পৌর সভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে সকল সদস্যকে দেশটির জাতীয় গানটি গাওয়ার অনুরোধ করা হলে ফৌজিয়া শেখ আলিম প্রশ্ন তোলেন যে, গানটি গাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা আছে কি না। এরপর তিনি অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

রুবিনা ইকবাল খান জানান, তার ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে এই গানটি গাইতে অনুমতি দেয় না।এই বক্তব্যের পর উপস্থিত বিজেপি সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন— “ভারতে থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে।” পরে অবশ্য রুবিনা খান তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

সহকারী পুলিশ কমিশনার বিনোদ দীক্ষিত জানান, কাউন্সিলরদের দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের বলেছি যে, তারা একটি সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন এবং এমন সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।”

পুলিশের মতে, এই ঘটনাটি পৌর সংস্থায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ব্যাহত করেছে।মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি জিতু পাটোয়ারী এবং রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন যে, জাতীয় গর্বের বিষয়ে বিরোধীদের এই “দ্বিমুখী নীতি” মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কি এই ধরনের আচরণকে উৎসাহিত করছে?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৭৫ সালে রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক। গানটির কিছু স্তবক নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলে আসছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নির্দেশিকা থাকলেও, এটি গাওয়া বা না গাওয়া নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক প্রায়ই দেখা যায়।বর্তমানে পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছে এবং কাউন্সিলর ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে, এটি কি নিছক একটি পদ্ধতিগত বিবাদ নাকি আইনি লঙ্ঘন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102