ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। শহরের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু প্যাভিলিয়ন রয়্যালে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সংবর্ধনায় নর্থ মেসিডোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্যারিসে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের শতাধিক রাষ্ট্রদূত, ইউনেস্কো সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা স্বাগত বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত ছাত্র-জনতার অবদানও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এ সময় জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন এবং উপস্থিত কূটনীতিকদের সমর্থন কামনা করেন।

বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স এবং ইউনেস্কোর সঙ্গে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ফরাসি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশি ও ফরাসি ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে পরিবেশিত নৈশভোজ সংবর্ধনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।