টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রাম্য সালিশে জুতা পেটা ও জরিমানা করে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সুজনবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ভিকটিম একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে বাড়িসংলগ্ন বোরো খেতে কাজ করতে গেলে একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী একাব্বর আলী (৫৩) তাকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ভিকটিমের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
ভিকটিমের চাচি আনোয়ারা বেগম জানান, ভিকটিম ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন এবং তার মা ও ভাই-ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পর স্থানীয় কিছু মাতব্বর পরিবারকে থানা বা হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। পরে রাতেই অভিযুক্তের ছোট ভাই শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে সালিশ বসে।
সালিশে ভিকটিম ও অভিযুক্তকে পাশাপাশি বসিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে বলা হয়। লজ্জা ও ভয়ের কারণে ভিকটিম কথা বলতে না চাইলে তাকে ধমকানো হয় এবং একপর্যায়ে আপসে রাজি করাতে চাপ দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তকে জুতা পেটা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে উল্লেখ করে ভিকটিমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নিতে বলা হয়।
ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে এলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে বিকেলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রেফার করা হয়।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলাম ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমরা লোকমুখে শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের গুরুতর অপরাধে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা বন্ধ করে আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।