ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তেলের দাম কমেছে ১১ শতাংশের বেশি।
লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে অবশিষ্ট সময়ের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় এক দিনেই তেলের দামে বড় ধস নামে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ১১ দশমিক ১২ ডলার বা ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১১ দশমিক ৪০ ডলার বা ১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রকৃতপক্ষে এই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক এবং লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিনিয়োগকারীদের মনে আশার আলো দেখিয়েছে। তাদের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী এই অস্থিরতা হয়তো শেষের পথে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি বড় অর্জনের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান আগামী ২০ বছরের বেশি সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে আমার মনে হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তেলের বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : রয়টার্স।