বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলেও দিনটিতে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অস্ট্রেলিয়া শাখা ও অঙ্গসংগঠন।
সূত্র জানায়, স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির নীরবতা সিডনিতে বসবাসরত দলের মৌন সমর্থনকারীরাসহ বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচসৃষ্টি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা যেমন স্বাধীনতা বা বিজয় দিবস পালন করত না, তেমনি এ বছর অনুষ্ঠান থেকে বিরত রয়েছে অস্ট্রেলিয়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সংকটময় সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন এবং পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও স্বনির্ভরতার চেতনায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়। মহান স্বাধীনতা দিবস সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
এই প্রেক্ষাপটে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলের অস্ট্রেলিয়া শাখার পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসের কোনো আয়োজন না থাকায় তৃণমূলসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্ষোভ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই এটিকে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য লজ্জার বিষয় এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে তাদের এমন নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া বিএনপির পক্ষ থেকে মহান ২৬শে মার্চ কোনো কর্মসূচি না থাকলেও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে দিনটিকে ঘিরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বা চার্চে আলোচনা সভার আয়োজন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
অস্ট্রেলিয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় ১৭ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল হিসেবে বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছালেও অস্ট্রেলিয়ায় নেতৃত্বদানকারী সামনের সারির নেতারা বাংলাদেশে তদবিরসহ নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস পালনে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, যা তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা তৈরি করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলকে এর খেসারত দিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে দলের নীতিনির্ধারকদের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির এক নেতা বলেন, অতীতে অস্ট্রেলিয়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উদাসীনতা ও ক্ষমতাধর মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে হয়তো তারা স্বাধীনতা দিবস পালনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হওয়ায়, এ ধরনের অবহেলা।এটা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি এ ধরনের অসম্মান, অবহেলা ও দুঃখজনক বলে মনে করেন তিনি।
২৬শে মার্চ দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি পালন না করার বিষয়টি স্বীকার করে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলী বলেন, সিডনি কনসুলেট অফিস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। তাই ওই দিন আলাদাভাবে কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। তবে গত ৮ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।