চলছে পবিত্র রমজানের রহমতের দশক। সিয়াম সাধনার এই মাসে মুমিন মুসলমানরা যখন স্রষ্টার সন্তুষ্টির নেশায় বিভোর, তখন আধ্যাত্মিক উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘তাহাজ্জুদ’ নামাজ। সাধারণ সময়ে যা কেবল নফল ইবাদত, রমজানে তা হয়ে ওঠে পরম প্রাপ্তির এক মহাসুযোগ।
সেহরির বরকতময় সময়ে তাহাজ্জুদ
রমজানে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য আলাদা করে রাত জাগতে হয় না। সেহরির জন্য মুমিনরা যখন শেষ রাতে জাগ্রত হন, তখন সামান্য সময় বের করলেই আদায় করা যায় এই মহিমান্বিত সালাত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ সেহরির ঠিক আগে বা পরে দুই বা চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে এক পরম প্রশান্তি নিয়ে আসছে।
কেন রমজানে তাহাজ্জুদ এত গুরুত্বপূর্ণ?
১. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় : হাদিস অনুযায়ী, শেষ রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ডাকতে থাকেন—‘কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, আমি তাকে ক্ষমা করব। কে আছো রিজিক চাওয়ার, আমি তাকে রিজিক দেব।’ রমজানে এই কবুলিয়তের ধারা আরও বেগবান হয়।
২. রহমতের বিশেষ পরশ : রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের। এই রহমত পাওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি হলো নিভৃতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো।
৩. গুনাহ মোচন : সারা বছরের জমে থাকা পাপের বোঝা হালকা করতে চোখের পানির এই নামাজের বিকল্প নেই।
সামাজিক ও মানসিক প্রশান্তি
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শেষ রাতের নিস্তব্ধতায় স্রষ্টার সাথে একান্তে কথা বলা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। রমজানের এই সময়ে পরিবারসহ তাহাজ্জুদ আদায়ের চর্চা পারিবারিক বন্ধন ও ধর্মীয় অনুশাসনকে আরও সুদৃঢ় করছে।
ডিজিটাল যুগে তাহাজ্জুদের জাগরণ
বর্তমানে অনেক তরুণকে দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে তাহাজ্জুদের জন্য ডেকে দিচ্ছে। স্মার্টফোনে ‘তাহাজ্জুদ অ্যালার্ম’ বা রিমাইন্ডার সেট করে এই ইবাদতে অংশ নেওয়ার হার দিন দিন বাড়ছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং একটি ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।
রমজান মানে কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং রুহ বা আত্মার খোরাক জোগানো। রহমতের এই চতুর্থ দিনে আমাদের শপথ হোক, সেহরির বরকতময় সময়ে অন্তত কয়েক মিনিট জায়নামাজে কাটানো। কারণ, শেষ রাতের সেই অশ্রু আর আরশের করুণাই বদলে দিতে পারে আমাদের ইহকাল ও পরকাল।