রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ড্রোন ও মিসাইল ভাণ্ডার দ্রুত পূর্ণ করা হচ্ছে: যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা ইরানের প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারত-রাশিয়ার; একে অপরের দেশে মোতায়েন করবে সেনা, যুদ্ধবিমান ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য কাল পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা : ট্রাম্প শত্রুর মোকাবিলায় এক চুলও ছাড় নয় : ইরানের সেনাপ্রধান বিতর নামাজের সঠিক নিয়ম ও রাকাত সংখ্যা নিয়ে ইসলামি বিধান আজানের সময় নারীরা মাথায় কাপড় না দিলে কি গুনাহ হয়? লোহিত সাগরের পানি যেভাবে পৌঁছে যায় মক্কার কোটি হাজীদের ওজুর কলে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর হাজার বছরেও শুকায়নি এক ফোঁটা: জমজম কূপের বিস্ময়কর রহস্য স্ক্রিনশট ফাঁস, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ক্রিকেটারের

আজানের সময় নারীরা মাথায় কাপড় না দিলে কি গুনাহ হয়?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলিম সমাজে আজান চলাকালীন নারীদের মাথায় কাপড় দেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের চর্চা বা ঐতিহ্য লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারীই আজান শোনা মাত্রই অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে মাথা ঢেকে নেন। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কতটুকু বাধ্যতামূলক বা এটি না করলে কোনো গুনাহ হয় কি না- এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। 

ইসলামি শরিয়তের মূল বিধান
ইসলামি আইন বা ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ও আলেমদের মতে, আজান চলাকালীন নারীদের মাথায় কাপড় দেওয়া বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব কোনো বিধান নয়। অর্থাৎ, আজান হচ্ছে বলে আলাদা করে মাথায় কাপড় দিতেই হবে-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ কুরআন বা হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই।

কেন এই প্রথার প্রচলন?
আলেমদের মতে, আজানের সময় মাথা ঢাকার বিষয়টি মূলত ‘আদব’ বা সম্মানের একটি অংশ। আজান হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাজের জন্য আহ্বান। এই পবিত্র আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন স্বরূপ মুসলিম নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই মাথা ঢেকে নেন। এটি মূলত একটি সুন্দর সামাজিক ও ধর্মীয় শিষ্টাচার।

পর্দার বিধান বনাম আজানের সময়
ইসলামে গায়রে মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে বৈধ) পুরুষদের সামনে নারীদের পর্দা করা বা মাথা ঢেকে রাখা সবসময়ই বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে আজান হওয়া বা না হওয়ার সাথে পর্দার বিধানের কোনো পার্থক্য নেই।

যদি কোনো নারী নিজ ঘরে একা থাকেন বা কেবল মাহরামদের সামনে থাকেন, তবে আজানের সময় তাঁর মাথায় কাপড় না থাকলে কোনো গুনাহ হবে না।

তবে আজানের উত্তর দেওয়া এবং সেই সময়ে শান্ত ও বিনয়ী থাকা সুন্নত।

আলেমদের মতামত
দেশের বিশিষ্ট মুফতি ও ইসলামি স্কলারদের মতে:

“আজান আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে। একজন মুমিন হিসেবে সেই ঘোষণার প্রতি সম্মান দেখানো প্রশংসনীয়। তবে কেউ যদি আজানের সময় মাথায় কাপড় না দেন, তবে তাকে পাপিষ্ঠ ভাবা বা শরিয়ত লঙ্ঘনকারী বলা ভুল হবে। এটি ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো রুকন নয়, বরং একটি ঐচ্ছিক আদব।”

ভুল ধারণা ও সচেতনতা
গ্রামাঞ্চলে বা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আজানের সময় মাথায় কাপড় না দিলে তাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কঠোরতা দেখানোর কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। বরং জোর দেওয়া উচিত আজানের উত্তর দেওয়া এবং আজানের পর দোয়া পাঠ করার ওপর, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

আজানের সময় মাথায় কাপড় দেওয়া একটি ঐচ্ছিক সম্মান প্রদর্শন। এটি করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে না করলে কোনো গুনাহ বা নামাজে কোনো সমস্যা হবে না। ধর্মের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে কুসংস্কার ও অহেতুক কঠোরতা পরিহার করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102