রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ‘ময়না’ রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যেসব এলাকায় কোরবানির জন্য গরু দেখতে গিয়ে নিভে গেল দুই বন্ধুর প্রাণ তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৩ প্রাণ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অনলাইন জুয়া-অর্থপাচার চক্রে সিআইডির অভিযান, তিনজন গ্রেপ্তার ঈদে নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত ও দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে কোস্ট গার্ড ২ বছরের মধ্যে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক কোন ফাইলে অনিয়ম হয়েছে তা প্রকাশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ

কোরবানির হুকুম ও নিয়ম

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

দ্বিতীয় মতে কোরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এটি অধিকাংশ আলেমের মত এবং ইমাম মালেক ও শাফেয়ী (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ মত। কিন্তু এ মতের প্রবক্তারা আবার বলেছেন : সামর্থ্য থাকা অবস্থায় কোরবানি পরিত্যাগ করা মাকরূহ। যদি কোনো জনপদের লোকেরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সম্মিলিতভাবে কোরবানি পরিত্যাগ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে।

সারকথা হলো যারা কোরবানিকে ওয়াজিব বলেছেন তাদের প্রমাণাদি অধিকতর শক্তিশালী। আর ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতো এটাই আর বর্তমান কালের শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ উসাইমীন এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

কোরবানির ফজিলত

১. কোরবানি দাতা নবী ইবরাহিম (আ.) ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়ন করে থাকেন।

পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কোরবানিদাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:

‘আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের মাংস এবং রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন মুহসিনদেরকে।’

২. পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অভাবীদের আনন্দ দান। আর এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কোরবানির মাংসের পরিমাণ টাকা যদি আপনি তাদের সদকা দিতেন তাতে অর্জিত হতো না। কোরবানি না করে তার পরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কোরবানি আদায় হবে না।

কোরবানির শর্তাবলি:

১. এমন পশু দ্বারা কোরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হলোÑ উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। এগুলোকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহিমাতুল আন‘আম।’ যেমন, আল্লাহ বলেন:

‘আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ হাদিসে এসেছে: জাবের (রা.) হতে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই এক বছরের বয়সের ছাগল কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কোরবানি করতে পার।’ আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো জন্তু কোরবানি করেননি ও কোরবানি করতেও বলেননি। তাই কোরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে।

২. শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দুবছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের।

৩. কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। যেমন হাদিসে এসেছে:

সাহাবি আল-বারা ইবনে আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন: চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েয হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে নাÑ অন্ধ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।

৪. যে পশুটি কোরবানি করা হবে তার ওপর কোরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানাস্বত্ব থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কোরবানি আদায় হবে না।

কোরবানির ওয়াক্ত বা সময়:

কোরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন কোরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না।

যারা ঈদের সালাত আদায় করবেন তাদের জন্য কোরবানির সময় শুরু হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে।

জুনদুব ইবনে সুফিয়ান বলেন, আমি কোরবানির দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নামাজের পূর্বে যবেহ করেছে সে যেন আবার অন্য স্থানে যবেহ করে। আর যে যবেহ করেনি সে যেন যবেহ করে।

আর কোরবানির সময় শেষ হবে জিলহজ মাসের ১৩ তারিখের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে। অতএব কোরবানির পশু যবেহ করার সময় হলো চার দিন। জিলহজ মাসের দশ, এগারো, বার ও তেরো তারিখ। এটাই উলামায়ে কেরামের নিকট সর্বোত্তম মতো হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। কারণ:

এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন: ‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে।’

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: ‘এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে বুঝায় কোরবানির দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’

অতএব এ দিনগুলো আল্লাহ তায়ালা কোরবানির পশু যবেহ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

দুই. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আইয়ামে তাশরিকের প্রতিদিন যবেহ করা যায়।’ আইয়ামে তাশরিক বলতে কোরবানির পরবর্তী তিন দিনকে বুঝায়।

তিন. কোরবানির পরবর্তী তিন দিনে সওম পালন জায়েয নয়। এ দ্বারা বুঝে নেওয়া যায় যে এ তিন দিনে কোরবানি করা যাবে।

চার. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আইয়ামে তাশরিক হলো খাওয়া, পান করা ও আল্লাহর জিকির করার দিন।’ এ দ্বারা বুঝে নিতে পারি যে, যে দিনগুলো আল্লাহ খাওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন সে দিনগুলোতে কোরবানির পশু যবেহ করা যেতে পারে।

পাঁচ. সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয়, কোরবানির পরবর্তী তিন দিন কোরবানির পশু যবেহ করা যায়।

ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন: আলী ইবনে আবি তালেব (রা.) বলেছেন: ‘কোরবানির দিন হলো ঈদুল আজহার দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’ যারা বলেন, কোরবানির দিন হলো মোট তিন দিন; জিলহজ মাসের দশ, এগারো ও বারো তারিখ, বারো তারিখের পর যবেহ করলে কোরবানি হবে না, তাদের কথার সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই ও মুসলিমদের ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102